
আমিনুর রহমান (চাঁদ)
মিসওয়াক ও আধুনিক বিজ্ঞান:
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান নানাভাবে মিসওয়াকের বিভিন্ন উপকারিতা ও প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণার পর নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তসমূহ ঘোষণা করেছে। যেমন:
ক. জীবাণু ধ্বংসে ভূমিকা: মিসওয়াক জীবাণু প্রতিরোধ করে ও হত্যা করে। এতে মুখগহ্বরের ভিতরের জীবাণু মারা যায়। টুথপেস্ট-টুথব্রাশ ব্যবহারের পরও অনেক জীবাণু বেঁচে থাকে। কিন্তু মিসওয়াক সব ধরনের জীবাণু নির্মুল করে।
খ.মস্তিস্কের শক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা: মিসওয়াক ব্যবহারে মস্তিস্কের শক্তি অর্জিত হয়।এটি সবল,অটুট ও দীর্ঘক্ষণ স্বাস্থ্যবান থাকে। মিসওয়াকের অভাবে তৈরী দাঁতের দূর্ঘন্ধ ও রোগ মস্তিস্কে আঘাত করে থাকে। এটি হার্টের অসুখেরও অন্যতম কারণ। মিসওয়াকের মাধ্যমে এ ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা যায়।
গ.টনসিল প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ভূমিকা: নিয়মিত মিসওয়াক করলে টনসিল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। টনসিল হওয়ার পর মিসওয়াক শুরু করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে টনসিল ভালো হয়ে যায়।
ঘ. দৃষ্টিশক্তিতে মিসওয়াকের প্রভাব: দাঁতের অসুখ বিভিন্ন সময় চোখের অসুখের কারণ হয়ে থাকে। চোখের রোগীদের ওপর বিস্তারিত গওবষণা পরিচালনার পর পরিচালকগণ প্রমাণ পেয়েছেন,কম দৃষ্টিশক্তির রোগীদের
দূরবস্থার নেপথ্যে অন্যান্য কারণের সঙ্গে দাঁতের ব্যথা ও অপরিচ্ছন্নতা অন্যতম কারণ। মিসওয়াক এ অবস্থা দূর করতে পারে।
ঙ. কানের সুস্থতায় মিসওয়াকের প্রভাব: মাঢ়িতে পুঁজ বিশেষত ভিতরের মাঢ়িতে পুঁজ ও ক্ষত হওয়ার কারণে কানে ব্যথা হয়ে থাকে। কেউ কেউ কানে কম শোনা শুরু করেন এবং কান সংক্রান্ত আরো নানা কুপ্রভাব প্রকাশিত হতে থাকে। মিসওয়াক করার মাধ্যমে এ অবস্থার নিরসন সম্ভব।
চ.কফ-কাশি নিরাময়ে মিসওয়াক: যাদের সার্বক্ষণিক কাশি রয়েছে,গলায় কফ আটকে নানা অসুবিধা হয় এমন লোক যদি নিয়মিত মিসওয়াক করে,সে অনেকটা আরাম পায়। নিয়মিত মিসওয়াক করলে এ অবস্থার থেকে উদ্ভবই হয় না।
এভাবে সব দিকের বিশ্লেষণ, পরীক্ষা ও গবেষণা থেকে প্রমাণিত হয়েছে, মিসওয়াক করা কেবল দাঁত, মাঢ়ি, মুখগহ্বর ও মুখমন্ডল সংশ্লিষ্ট স্নায়ুতন্ত্রের জন্যই কেবল উপকারী নয় বরং গোটা মানবদেহের সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।