বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় আমিনুর রহমান। ১/১২/১৯৫৪ সালে নারায়ণগঞ্জ পাইকপাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি এক মাত্র বাবা মায়ের সন্তান। ছোটবেলা থেকে খেলার পাগল ছিলেন আমিনুর রহমান।
১১বছর বয়সে ১১.০২.১৯৬৭ সালে পিতা খবির আহম্মদ উদ্দিনকে হারন এবং ১০.০৪. ১৯৮৮. সালে মাতা হাসনা বানুকে হারান।পিতা মৃত্যু পর হযরত সৈয়দ নাজমুল হাসান সাহেব নারায়ণগঞ্জের বর্তমান মেয়র ডাঃসেলীনা হায়াত আইভির বাবা জনাব আলী আহমদ চুনকার হাতে তুলেদেন আমিনুর রহমান কে।তার পর থেকে জনাব আলী আহমেদ চুনকা সাহেব আমিনুর রহমান কে দেখাশোনা করেন। তিনি যে শুধু ফুটবল খেলেছেন তা নয়। খেলেছেন এথলেটিক্স ও ভলিবল।
আমিনুর রহমান বাড়ীর পাশে জয় গোবিন্দ হাই স্কুল। সেই স্কুলেই লেখা পড়া শুরু করেন। এই স্কুলে লেখা পড়ার সময় ইন্টারস্কুল ফুটবল ও এথলেটিক্স খেলা শুরু করেন।ইন্টারস্কুলের খেলায় দুই বার চ্যাম্পিয়ন হোন এবং এথলেটিক্স খেলায় ২০০ও ৪০০ মিটারে দুইবার করে চ্যাম্পিয়ন হোন। ১৯৬৮ সালে মেট্রিক পাস করেন।১৯৬৯ সালে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ ভর্তি হোন।
সেই সময় খেলায় তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান তোলারাম কলেজ যসর বোর্ডের সাথে ১–০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়ে যখন হাজী আমিনুর রহমান ও তার দল নারায়ণগঞ্জ ফিরে আসলে তার বাড়ির সামনে সাধারণ জনতা থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ,শিল্পি, বুদ্ধিজীবী ঢল নামে। তখন আমির রহমান ছিলেন টগবগে যুবক।
আমিনুর রহমান সাবার সামনে স্বগর্ব করে বলে ছিলেন আল্লাহর রহমত থাকে এবং আপনাদের দোয়া থাকে তাহলে আগামী বছর অর্থাৎ ১৯৭০ সালের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা বলেছেন। যেমন কথা তেমনিই কাজ করে দেখিয়েছেন আমিনুর রহমান। আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ সন চলে এলো অর্থাৎ ১৯৭০ সাল।খেলা ছিলো রাজশাহীতে। তাই খেলার ২ দিন আগে চলে গেলেন আমিনুর রহমান ও তার দলে রাজশাহী ।
রাজশাহী আগে চলে যাওয়ার কারণ হলো ওই খানকার পরিবেশ বুঝার জন্য। যখন আমিনুর রহমানের দল রাজশাহী পৌছালো ওই খানকার দর্শক বলতে থাকে ঘরের পুকুরের মাছ ঘরে থাকবরে বলতে থাকে। আর যেই দিন খেলা শুরু হবে সেই দিনে সকালে স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভরে যায়।
খেলাটি শুরু হয় বিকেল চারটায়। আমিনুর রহমান কে খেলতে হয় প্রায় চল্লিশ হাজার দর্শকের সামনে। আর খেলাটি ছিলো আক্রমণ প্রতি আক্রমণ। আর সেই খেলায় আমিনুর রহমানের দল রাজশাহী বোর্ডকে ১–০ গোলে পরাজিত করে।আর তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন গৌরব অর্জন করে।
আমিনুর রহমান ও তার দল যখন নারায়ণগঞ্জ আসার পর করতালি আর জয়ের ধ্বনি আকাশে বাতাসে মুখরিত হয়ে উঠে। আর জয়ের মালা গলায় মুখমণ্ডল ঢেকে যায়।আর সেই চ্যাম্পিয়ন সুবাদেই ঢাকাশ্বরি মেলা খেলোয়াড়ের কোঠায় চাকরি পান।এপর আর তিনি আর খেলতে পারিনি কারাণ স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য।স্বাধীনতার যুদ্ধের জন্য যখন সারা দেশে প্রস্তুতি চলেছিল তখন নারায়ণগঞ্জের পাইকাপাড়া থেকে আমিনুর রহমান ও অনেক তরুণ ভারতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তখন বর্তমান নারায়ণগঞ্জের মেয়ের ডাঃ সেলীনা হায়াতের বাবা জনাব চুনকা সাহেব তাকে যেতে বাধা দিলেন।তিন বললেন তোরা যদি সব চলে যাস তাহলে এখানকার খবর দিবেকে।তখন আমিনুর রহমান তার কথা ফেলতে পারিনি। আমিনু রহমান দেশে থেকে গেলেন।এবং যুদ্ধের সময় তিনি ছদ্মবেশে তিনি খবর দিতেন মুক্তিবাহিনীদেরকে। আমিনুর রহমান জিমখানা মাঠে পাঠের খড়ি বিক্রিতা হিসেবে কাজ করতেন। আসলে পাঠের খড়ির বিক্রিতা কাজ করতেন না পাঠের খড়ির ভিতরে অস্ত্র নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতেন।
এক সময় পাকিস্তান বাহিনী খবর পাই যে আমিনুর রহমান মুক্তিবাহিনীদের সাথে কাজ করছেন। তখন পাকিস্তান বাহিনী আমিনুর রহমান বাড়ীরতে যায়। কিন্তু আমিনুর রহমানকে বাড়ীতে পাইনি। আমিনুর রহমান বাড়ী আগুনে জ্বালিয়ে দেয়।এতে আমিনুর রহমানের জীবনের স্মৃতি ছবিসহ আরো অনেক প্রয়োজন কগজপত্র পুড়ে যায়। কিন্তু আমিনুর রহমানের মা ছিলেন বুদ্ধিমুতি তিনি যাওয়া সময় বাড়ীর দলিল সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন।
যদি তিনি না নিতেন আজ তিনি যেই বাড়ীতে বসবাস করছেন তা হয়তো পেতেন না।দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে দেশে সুত্র মুক্ত হল।আমার অর্জন করি নতুন দেশ, নতুন পতাকা, নতুন আশায় বুক বাধি।দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমিনুর রহমান ঢাকাশ্বরি মিলে খেলোয়াড় হিবে চাকরি পান।এছাড়া আমিনুর রহমান স্বাধীনতার আগে ১৯৬৯ সালে নিজ জেলায় নারায়ণগঞ্জের অগ্রামীপরিষদে খেলেন। একই বছরে আমিনু রহমান খেলেন অভ্যন্তরীণ জলপরি পরিবহন সংস্থায় খেলেছেন।
সেই বছরে দুইটি দল চ্যাম্পিয়ন হয়। আর চ্যাম্পিয়নের কারণে ঢাকা দ্বিতীয় বিভাগে রেলওয়ে ব্লুজের পক্ষে খেলেন। এরপর ১৯৭২ সালে ঢাকাশ্বরি মিল ও প্রথম বিভাগের লীগে বি.জি প্রেসে আমিনুর রহমান খেলেন।আমিনুর রহমান সেই থেকে নিয়মিত লীগ খেলেছেন। ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত রহমতগঞ্জ মুসলিম সোসাইটি ফ্রেন্ডস ক্লাবে খেলেন।আমিনুর রহমান ১৯৭৬ সালে দল পরিবর্তন করেন। তিনি তার প্রথম যেই দলে খেলেছেন অর্থাৎ বি.জি প্রেসে খেলন ঠিক এক বছর খেলন।
এরপর আমিনুর রহমান ১৯৭৭ সালে দল পরিবর্তনের সাথে তার ভাগ্য পরিবর্তন হয়।এই প্রথম বার মত আমিনুর রহমান প্রথম বিভাগের লীগের দলীয় অধিনায়ক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।তিনি সাধারণ বিমার দলের অধিনায়ক পালন করেন।আমিনুর রহমান সাধারণ বিমার দলের অধিনায়ক হওয়ার পরে দলে চমক সৃষ্টি করেন।তার অধিনায়ক অধীনে ১৯৭৬ সালের লীগের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়েছেন।
কিন্তু সেই খেলা বাতিল করে দিয়েছে। পরে আবার নতুন করে দিলে খেলা দিলে ড্র করে এক পয়েন্ট নেই।আমিনুর রহমান বলেছেন তার জবনের শ্রেষ্ঠ খেলা হল ১৯৭৪ সালের রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি হয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ২_১ গোলে পরাজিত করেছেন।আর সেই খেলায় আমিনুর রহমানের দৃঢ়তার সাথে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের আক্রমণভাগের কুশলী খেলোয়াড়দের প্রতিহত করেছেন।
আমিনুর রহমানের বলেছেন সবচেয়ে বেদনাদায়ক খেলা হল ১৯৭৫ সালে রহমতগঞ্জ আবাহনীর সাথে বিপুলসংখ্যক গোলে শোচনীয় ভাবে হারা।এছাড়া আমিনুর রহমান প্রথমে লেফট আউট পজিশন, পরে খেলেছন লেফট ব্যাক পজিশন। আমিনুর রহমান বিদেশে খুব একাটা খেলার ভাগ্য হয়নি।তিনি ভারতের উড়িষ্যা সফর করেছেন। যযথাক্রমে ১৯৭২ও ১৯৭৪ সালে। প্রথমে ইস্ট এন্ড ক্লাব এবং দ্বিতীয় বার রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি হয়ে যান।
আমিনুর রহমান ১৯৮০সালে জাতীয় দলের হয়ে কুয়েতে এশিয়া কাপ খেলতে যান। এশিয়া কাপে খেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমিনুর রহমান বাংলাদেশের পতাকা হাত নিয়ে মাঠে যান।আর এশিয়া কাপে বাংলাদেশ প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেয়।আমিনুর রহমান দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ১৯৬৯ থেকে ১৯৮০ সালের অনকে দলে পক্ষ হয়ে অংশ নিয়েছেন।
আমিনুর রহমান কোন খেলায় তাকে এবং দর্শকে আনন্দিত করেছেন এবং আবার কোন খেলায় তাকে এবং দর্শক দিয়েছেন ব্যর্থতা কলংকর কালিমা।আমিনুর রহমান ১৯৮০ ডকইর্যাডের খেলে এবং সেই সালে খেলা ইতিটানেন এবং বুটের জুরা তুলে রাখেন।
এছাড়া আমিনুর রহমান ব্যক্তিগত হিসাবে ছিলেন নম্র বিনিময়ে ছিলেন।এছাড়া আমিনুর রহমান ছিলেন চুপচাপের সভাবের প্রকৃতি মানুষ,ধর্মপ্ররায়ন ব্যক্তি।সততার সাথে চলতেন।আমিনু রহমান পাঁচওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করেন।খেলা ছাড়ার পরে আমিনুর রহমান কাস্টমস চাকরির অফার পান।কিন্তু তিনি করেনি ঘুষের কারণে। আমিনুর রহমান সর্বশেষ ব্যাবসা দিয়েছিলেন। তাও তিনি ঠিক মতো করেনি কারণ মিথ্যা কথা বলতে হবে বলে।
আমিনুর রহমান ভিবিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আছেন।২০০৩সালের ১৩ই জুনে আমিনুর রহমান পাইক পাড়া ক্রিকেট একাডেমী দেন।আর এই একাডেমীতে প্রায় ৫০ জন খেলোয়াড় আছে।এই কাডেমী কিছু খেলোয়াড়, বি.পি.এল সহ ঢাকা ডিভিশন ও জাতীয় দলে খেলেছে। এই একাডেমী আমিনুর রহমান নিজ টাকায় চালাচ্ছেন। বর্তমানে জিমখানা মাঠের চতুর দিকে সুপাড়ী ও মেহগনি গাছ মাথা উচু করে শোভাবর্ধন করেছে।আমিনুর রহমান তার নিজের টাকায় গাছ লাগিয়েছেন। আমিনুর রহমান ১৯৭৯ সালে নারায়ণগঞ্জের কাশিপুর দেওয়ান বাড়ীর শামীমা রহমান কে বিয়ে করেন।তিন সন্তানের জনক আমিনু রহমান। সাদিয়া ইসলাম সাথি, আনিসুর রহমান, সানি। আমিনুর রহমান স্ত্রী সন্তান ও নাতি নাতনি নিয়ে সুখেই আছেন
